সরকার বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার প্রদান করে এ খাতের ব্যাপক উন্নয়নে নানামুখী কর্মসূচী গ্রহণপূর্বক তা নিবিড় তদারকির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করায় ইতিমধ্যেই দেশের সকল জনগণের জন্য শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সরকার চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুতের সাশ্রয়ী, দক্ষ, নিরাপদ ও টেকসই ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করেছে। গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নে এ খাতকে আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর ও গ্রাহক বান্ধব করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিদ্যুতের সিস্টেম লস হ্রাসকরণ, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ত্রুটিপূর্ণ বিলিং ব্যবস্থা পরিহারের মাধ্যমে গ্রাহক সেবার মানোন্নয়ন, লোড ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা বাস্তবায়ন ও জনগণের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী মনোভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রি-পেইড/স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) কর্তৃক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের লক্ষ্যে কারিগরী স্পেসিফিকেশন প্রণয়ন, বাংলাদেশের ট্যারিফ কাঠামোর উপযোগী সফটওয়্যার উন্নয়ন, প্রি-পেইড মিটারিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন, পরিচালন ও ডাটা সংরক্ষণের জন্য Master Information Centre (MIC) স্থাপন করা হয়েছে। আরইবি কর্তৃক স্মার্ট প্রি-পেইড মিটারিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য Disaster Recovery (DR), Meter Data Management System (MDMS) সহ প্রায় ২ কোটি গ্রাহকের জন্য একটি আধুনিক মানের MIC স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আরইবি কর্তৃক বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট অনুসরণপূর্বক উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার সংগ্রহপূর্বক স্থাপন করা হচ্ছে।
প্রি-পেইড/স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারের সুফলঃ
প্রি- পেইড/স্মার্ট প্রি- পেইড মিটার স্থাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ সংক্রান্ত সমস্যা দূর হবে এবং ত্রুটিপূর্ণ বিল প্রণয়ন বা মিটার রিডিং সংক্রান্ত গ্রাহক ভোগান্তি আর থাকবে না যার ফলে গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বিদ্যুতের প্রি-পেইড গ্রাহকগণ ঘরে বসেই অনলাইনে ওয়েবসাইটে, মোবাইল ফোনে মিটার রিচার্জ করছে এবং ডিজিটাল ওয়ালেট যেমন বিকাশ, রকেট ইত্যাদির মাধ্যমে বিল পরিশোধ বা মিটার চার্জিং এর সুবিধা পাচ্ছে। প্রি-পেইড মিটারের মাধ্যমে গ্রাহক নিজের বিল নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে বিধায় জনগণের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী মনোভাবও সৃষ্টি হচ্ছে। প্রি-পেইড মিটারের মাধ্যমে শতভাগ বিল আদায় নিশ্চিত হচ্ছে এবং সিস্টেম লস হ্রাস পাচ্ছে। ফলে বিতরণ সংস্থা/কোম্পানিগুলোর রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। সার্বিকভাবে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন গ্রাহকসেবার মান নিশ্চিতকরণ এবং সংস্থার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনয়নসহ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস